Friday, March 30, 2012

সদ্য বিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য অমুল্য উপদেশ (কপি পোষ্ট)


বিয়ের সময় পুত্রের উদ্দেশ্যে পিতার উপদেশ

হে আমার আত্মজ, প্রথমেই আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এ জন্য যে তিনি আমার জীবনটাকে এতটুকু প্রলম্বিত করেছেন যে আমি তোমার বিয়ের রাত দেখতে পাচ্ছিতুমি তোমার পুরুষত্বের পূর্ণতায় পৌঁছেছোআজ তুমি তোমার দীনের অর্ধেক পুরো করতে যাচ্ছোহ্যাঁ, এখন তুমি সেই জীবন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছো যেখানে তুমি একটি মুক্ত বিহঙ্গের মতো ছিলেকোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়া যাচ্ছে তা-ই করেছো এতদিনকোনো চিন্তা ছাড়াই সমুদ্রে গিয়ে লাফিয়ে পড়েছোসেখান থেকে তুমি যাচ্ছো এখন এক কর্তব্যপরায়ণতা ও পূর্ণতার জগতে

একজন পিতা সেদিন নিজেকে সুখী মনে করেন যেদিন তিনি নিজের সন্তানকে পুরুষ হয়ে উঠতে দেখেনতুমি এক নব্য জগতে এবং এক নতুন জীবনে পা রাখতে যাচ্ছতাতে অনেক কল্যাণ ও সৌন্দর্য রয়েছে, সুন্দরভাবে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে পারলে তুমি তা দেখতে পাবেআবার তাতে অনেক অপ্রিয় ও তিক্ত দিক রয়েছে যা তোমার জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে পারেতাই তোমাকে যথাযথ পরিচালনা ও উত্তরোত্তর উন্নতি করতে শিখতে হবেআর অবশ্যই তোমাকে জীবন সঙ্গীনি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা থেকে বেঁচে থাকতে হবেতুমি দশটি বিষয়ে লক্ষ্য না রাখলে নিজ ঘরে শান্তি পাবে নানিজের স্ত্রীর জন্য তুমি এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখবেঅতএব কথাগুলো মনে রেখ এবং এসব অর্জনে সচেষ্ট থেকো :

প্রথম ও দ্বিতীয় বিষয় হলো :

স্ত্রীরা প্রেম ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ পছন্দ করেএবং তারা চায় ভালোবাসার সুস্পষ্ট উচ্চারণ শুনতে চায়অতএব তোমার স্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে কার্পণ্য দেখাবে নাএ ব্যাপারে যদি কার্পণ্য করো, তবে তুমি তার ও নিজের মধ্যে নির্দয়তার দেয়াল টেনে দিলেস্বামী-স্ত্রীর নির্মল ভালোবাসার ব্যকরণে ভুল করলে

তৃতীয় বিষয় হলো :

স্ত্রীরা কঠোর ও অনড় স্বভাবের পুরুষদের অপছন্দ করে, আর দুর্বল ও কোমল চিত্তধারী পুরুষদের ব্যবহার করেঅতএব প্রতিটি গুণকে স্বস্থানে রাখবেকারণ, এটি ভালোবাসা ডেকে আনে এবং প্রশান্তি ত্বরান্বিত করে

চতুর্থ বিষয় হলো :

মেয়েরা স্বামীর কাছে তা-ই প্রত্যাশা করে স্বামীরা স্ত্রীর কাছে যা প্রত্যাশা করেযেমন : ভদ্রোচিত কথা, সুন্দর চেহারা, পরিচ্ছন্ন বসন ও সুগন্ধিঅতএব তোমার প্রতিটি অবস্থায় এসবের প্রতি লক্ষ্য রাখবেস্ত্রীকে নিজের মতো করে কাছে পেতে তার কাছে এমন অবস্থায় ঘেঁষবে না যখন তোমার শরীর ঘামে জবজবেতোমার কাপড় ময়লাকারণ, তুমি তা করলে যদিও সে তোমার আনুগত্য দেখাবে; কিন্তু তার অন্তরে তুমি এক ধরনের বিতৃষ্ণা তৈরি করে দিলেফলে তার শরীরই তোমার ডাকে সাড়া দেবেতবে অন্তর তার পালিয়ে বেড়াবে তোমার থেকে

পঞ্চম বিষয় হলো :

ঘর হলো নারীদের রাজত্বঘরের মধ্যে তারা নিজেকে নিজের আসনে সমাসীন ভাবেনিজেকে সেখানকার নেতা মনে করেঅতএব তার সাজানো এই প্রশান্তির রাজ্যটিকে তুমি তছনছ করতে যাবে নাএ আসন থেকে তাকে নামাবার চেষ্টাও করবে নাতুমি যদি তা-ই করো, তবে তাকে যেন তার রাজত্ব থেকে উচ্ছেদ করলেআর কোনো রাজার জন্য তার চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ হতে পারে না যে কি-না তার রাজত্ব নিয়ে টানাটানি করেযদিও সে প্রকাশ্যে তোমাকে হয়তো কিছু বলবে না কিন্তু এতে করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার পরিবেশ দূষিত হবে

ষষ্ঠ বিষয় হলো :

নারী যেমন চায় তার স্বামীকে পেতে; তেমনি তার পরিবারকেও সে হারাতে চায় নাঅতএব তুমি কিন্তু তার পরিবারের সঙ্গে নিজেকে এক পাল্লায় মাপতে যাবে নাযদি এমন চাও যে সে হয়তো তোমার হবে; নয়তো পরিবারেরতবে সে যদিও তোমাকেই অগ্রাধিকার দেবেকিন্তু মনে মনে ঠিকই বিষণ্ন হবেযার ভার সে তোমার দৈনন্দিন জীবন পর্যন্ত বয়ে আনবে

সপ্তম বিষয় হলো :

নিশ্চয় নারীকে সবচে বাঁকা হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছেএটি তার দোষ নয়বরং এ তার সৌন্দর্যের রহস্যতার আকর্ষণের চাবিকাঠিযেমন ভ্রুর সৌন্দর্য তার বক্রতায়অতএব সে কোনো ভুল করলে তার ওপর এমন হামলা চালিও না যাতে কোনো সহমর্মিতা বা সদয়তা নেইবাঁকাকে সোজা করতে গেলে তুমি তা ভেঙ্গেই ফেলবেএ ক্ষেত্রে তা হলো তাকে তালাক প্রদানপক্ষান্তরে ভুলগুলোয় প্রশ্রয় দিলে তবে তার বক্রতা বেড়েই যাবেসে নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে নেবেফলে সে তোমার জন্য যেমন নরম হবে নাতেমনি শুনবে না তোমার কথা

অষ্টম বিষয় হলো :

নারীদের সৃষ্টিই করা হয়েছে স্বামীর অকৃতজ্ঞতা এবং উপকার অস্বীকারের উপাদান দিয়েতুমি যদি যুগযুগ ধরে তাদের কারো প্রতি সহৃদয়তা ও সদাচার দেখাও তারপর শুধু একটিবার তার সঙ্গে মন্দ ব্যবহার কর তবে সে বলবে, তোমার কাছে আমি জীবনে ভালো কিছুই পেলাম নাঅতএব তাদের এ বৈশিষ্ট্য যেন তোমায় তাকে অপছন্দ বা ঘৃণায় প্ররোচিত না করেকারণ, তোমার কাছে তার এ বৈশিষ্ট্যটি খারাপ লাগলেও অনেক গুণ দেখবে তার ভালো লাগার মতো

নবম বিষয় হলো :

নানাবিধ শারীরিক দুর্বলতা ও মানসিক ক্লান্তির মাঝ দিয়ে নারী জীবন বয়ে চলেএ দিকে লক্ষ্য রেখেই আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য কিছু ফরয পর্যন্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন যা এ সময় কর্তব্য ছিলযেমন রজস্রাব ও সন্তান প্রসবকালে তার জন্য পুরোপুরিভাবে সালাত মাফ করে দিয়েছেনএ সময়দুটোয় সিয়াম পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছেযতক্ষণ না তার শরীরিক সুস্থতা ফিরে আসে এবং তার মেজাজ স্বাভাবিক হয়ে যায়অতএব এ সময়গুলোয় তুমি আল্লাহ ও ইবাদতমুখী হয়ে যাবেকারণ, তার জন্য আল্লাহ যেমন ফরযকে হালকা করে দিয়েছেন তেমনি তার থেকে তোমার চাহিদা ও নির্দেশও হালকা করে দিয়েছেন

দশম বিষয় হলো :

মনে রাখবে স্ত্রী কিন্তু তোমার কাছে একজন বন্দিনীর মতোঅতএব তার বন্দিত্বের প্রতি সদয় থাকবে এবং তার দুর্বলতাগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেতাহলে সে হবে তোমার জন্য সর্বোত্তম সম্পদসে তোমার সর্বোত্কৃষ্ট সঙ্গী হবেআল্লাহ তোমার কল্যাণ করুন

বিয়ের রাতে বিদায়ী কন্যার প্রতি মমতাময়ী জননীর একগুচ্ছ উপদেশ

আদরের নন্দিনী মেয়েকে চিরতরে একজনের কাছে তুলে দিতে একজন মায়ের কী কষ্ট লাগে, মমতাময়ী জননীর তখন কী আবেগের ঢেউ খেলে যায়, তাঁর চোখে তখন কত আনন্দ-বেদনার ভাবনা ভীড় করে তা একমাত্র ওই মা জননীই জানেনকিন্তু শুধু চোখের পানি ফেলে কলিজার টুকরা মেয়েকে শুধু বিদায় জানানোই নয়, তখন যদি তাকে এমন কিছু উপদেশ শুনিয়ে দেয়া যায় যা তার সারা জীবনের সম্বল হবে, যা তার আগামীর দিনগুলোকে উজ্জ্বল সুখময় করবে তবে তা বড্ড ভালো হয়সে থেকেই নিচের এই অমূল্য রত্নতুল্য উপদেশগুলো ভাষান্তর করে তুলে ধরা হলোআল্লাহ আমাদের প্রতিটি বোনের এবং মেয়ের জীবনকে করুন বর্ণিল ও সুখময়

হে আমার মেয়ে, তুমি তোমার বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছোযেখানে তুমি জন্মেছিলেযে বাসস্থানে তুমি প্রতিপালিত হয়েছোযাচ্ছো এমন পরিবেশে যার সঙ্গে তুমি মোটেও পরিচিত নওমিলিত হবে এমন সঙ্গীদের সঙ্গে যাদের তুমি চেনো না

অতএব তুমি তার দাসী হয়ে যাওসে তোমার দাস হয়ে যাবেআর তার জন্য তুমি ১০টি বৈশিষ্ট্য ধারণ করো, তবে সে তোমার জন্য সঞ্চিত ধন হয়ে যাবে

প্রথম ও দ্বিতীয়টি হলো :

স্বামীর সঙ্গে থাকবে অল্পে তুষ্টির সঙ্গেএবং জীবনযাপন করবে আনুগত্য ও মান্যতার ভেতর দিয়ে

তৃতীয় ও চতুর্থটি হলো :

স্বামীর নজরে পড়ার জায়গাগুলো দেখাশোনা করবেএবং তার নাকে লাগার স্থানগুলো খুঁজে ফিরবেতার দুই চোখ যেন তোমার কুসিত কিছুর প্রতি পতিত না হয়আর সুবাস ছাড়া তোমার কাছে যেন কোনো গন্ধ না পায়সুপ্রসিদ্ধ সুন্দরের সর্বোত্তম হলো চোখের সুরমাআর পবিত্র সুবাসগুলোর আদি ও সেরা হলো সাবান ও পানি

পঞ্চম ও ষষ্ঠটি হলো :

স্বামীকে খাওয়াবার সুযোগ তালাশ করবেএবং তাঁর নিদ্রার সময় নিরব থাকবেকারণ, ক্ষুধার তাপ মানুষকে তাতিয়ে দেয়আর ঘুম থেকে কেঁপে ওঠা তাকে ক্ষেপিয়ে দেয়

সপ্তম ও অষ্টম হলো :

স্বামীর বাসা ও সম্পদের যত্ন নেবেএবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি লক্ষ্য রাখবে

নবম ও দশম হলো :

তার কোনো নির্দেশ অমান্য করবে নাএবং তার কোনো দোষ খুঁজে বের করবে নাকারণ, তুমি তার নির্দেশের অবাধ্য হলে অর্থ তার মনটাকে চটিয়ে দিলে যদি তার কোনো দোষ প্রকাশ করলে তো তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করায় অনিরাপদ হয়ে গেলে

এরপর আরও মনে রাখবে, তাঁর বিষণ্নতার সময় আনন্দ প্রকাশ করবে নাআবার তাঁর আনন্দের সময় বিষণ্নতা প্রকাশ করবে নাকারণ, প্রথমটি তার কাছে অবহেলা মনে হবে এবং দ্বিতীয়টি তাকে বিরক্ত করবেতাকে সবচে মর্যাদা তুমি তখনই দেবে যখন তাঁকে সবচে বেশি সম্মান করবে

আর এ অবস্থায় তুমি সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না যাব না তোমার পছন্দ বা অপছন্দের বিষয়ে তাঁর সন্তুষ্টিকে তোমার সন্তুষ্টির ওপর এবং তাঁর চাওয়াকে তোমার চাওয়ার ওপর অগ্রাধিকার না দাওঅবশেষে প্রার্থনা, আল্লাহ তোমার সার্বিক কল্যাণ করুনতোমাদের দাম্পত্য জীবনকে সুখময় করুনআমীন

No comments:

Post a Comment