রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনেক আগে লিখেছিলেন, ‘বহু পথ ঘুরে বহু ক্রোশ দূরে/ দেখিতে গিয়াছি পবর্তমালা, দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু/ দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু।’
কম্পিউটার ইন্টারনেট যুগের মানুষ আমরা। মাকড়শার জালের বিস্তৃত সাবমেরিন ক্যাবল বেয়ে আমরা মুহূর্তের মধ্যেই ঘুরে আসতে পারছি পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে। কিন্তু আমাদের বাসা-বাড়ির পাশের ছোট্ট গাছের ছোট্ট টুনটুনিটির খবর রাখা হয় না তেমন করে। শোনা হয় না তার মিষ্টি গানের সুর। আমাদের দেশের বৈচিত্র্যময় এসব পাখিদের জীবনেও আছে অনেক মজার মজার ঘটনা।
চলুন আজ কিছু চেনা পাখির অজানা কথা জেনে নিই।
বাচ্চা ডাহুকের বুদ্ধি
আমাদের দেশে যে ক’টি পাখি ডাকের জন্য বিখ্যাত তাদের মধ্যে ডাহুক অন্যতম। ডাহুক অনেক সময় পোষও মানে। এই অনুগত পোষা পাখিটি দিয়ে অনেকে বুনো ডাহুকও শিকার করে। সারা বছর ডাহুকের ডাকাডাকি তেমন শোনা না গেলেও বর্ষাকালে এরা বেশি ডাকাডাকি করে।
আষাঢ়- শ্রাবন মাস এদের প্রজননকাল। জলাশয়ের ধারে ঝোপের মধ্যে এরা বাসা বানায়। মেয়ে পাখিটি ৬-৭টি ডিম দেয়। স্বামী স্ত্রী মিলে ডিম তা দেয়। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হল এ পাখির বাচ্চাগুলো কালো রঙের। পোকামাকড়, শামুক, উদ্ভিদের ডগা, শস্যদানা এদের প্রিয় খাবার। তবে বাচ্চার খাবার গ্রহণের সময় ঘটে সবচেয়ে মজার ঘটনা। অন্য বেশিরভাগ পাখিরা তাদের বাচ্চাকে মুখে তুলে খাইয়ে দেয়। কিন্তু মা ডাহুকী কখনও বাচ্চাদের তুলে খাওয়ায় না।
তাহলে কীভাবে খায় ওরা? ডিম থেকে বাচ্চা বের হবার সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মেই বাচ্চাগুলো ২০ ফিট উঁচু থেকে লাফ দিয়ে নামে মাটিতে। শরীরটা পাতলা বলে লাফ দিয়ে মাটিতে পড়লেও তাদের কিছুই হয় না। মাটিতে নেমেই বাচ্চাগুলো মা বাবার পিছনে পিছনে হেঁটে হেঁটে খাবার খুঁটে খুঁটে খায়।

ধৈর্য্যশীল পাখি মাছরাঙ্গা
মাছরাঙ্গা পাখিটিকে দেখলেই মনে হবে অত্যন্ত শান্ত ও ধৈর্য্যশীল। জলাশয়ের কাছাকাছি কোন ডালে বা কোন তারে বসে থাকে, নড়াচড়াও কম করে। মাছ কোন এঙ্গেলে আছে সেটা তার সূক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে দেখে নেয়।
আর যখনই মাছের অবস্থান টের পায় সাথে সাথে তীর গতিতে মাছের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাছ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাছরাঙা তাকে ধরে ফেলে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায় একটা ছোট্ট মাছ চঞ্চুর ফাঁকে ঝটপট করছে।
সব প্রজাতির মাছরাঙ্গার মাছ ধরার পদ্ধতি একই রকমের নয়। কোন কোন মাছরাঙ্গা জলাশয় বা পুকুরের কিনারের মাছ ধরতে বেশি পছন্দ করে। আবার কেউবা ধরে জলাশয়ের মাছখানের মাছ। প্রতিসরণ বোঝার ক্ষমতা আর প্রতিযোগিতা এড়াতেই তাদের এ প্রবণতা।
বাংলাদেশে ১২ জাতের মাছারাঙ্গা আমাদের দেশে দেখা যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মাছরাঙ্গার নাম পাতি মাছরাঙ্গা। এদের দেশের প্রায় সব জলাশয়েই দেখা যায়।

অবিরাম ডাকের পাখি সেঁকড়া বসন্ত
সেঁকড়া বসন্তকে অনেকেই অবিরাম ডাকের পাখি বলে। কারণ এরা প্রায় সবসময় ডাকাডাকি করে। অবিরাম ডাকের পাখি হলেও শীতে এরা ডাকে খুবই কম। তাই চোখেও পড়ে কম। বসন্তের শুরু থেকেই এরা টুক্-টুক্-টুক্ শব্দ করে এমন ভাবে ডাকে যেন কামার লৌহার উপর হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছে। প্রায় সারা দিনভর এরা ডেকে চলে। আর দুপুরের নির্জনতা ভাঙ্গতে এদের তো জুড়িই নেই। ঘন ঘন ডাকের কারনে এদের কাঁসারীও বলা হয়।
সেঁকড়া বসন্ত উষ্ণমন্ডলীয় পাখি। তবে অস্ট্রেলিয়ায় এদের দেখা যায় না। বাংলাদেশে মোট ৫ প্রজাতির বসন্ত দেখা মেলে। এদের মধ্যে সেঁকড়া বসন্ত দেশের সব জায়গায় আছে বলেই ধরা হয়।
ছোট পাখি বলেই তাদের ঝুট ঝামেলা কম, শত্রুও কম। সেঁকড়া বসন্ত খুবই উজ্জ্বল রঙয়ের একটি পাখি। এদের কপালের লাল দাগটা দেখলে মনে হবে কেউ যেন সিঁদুর পড়ে দিয়েছে। বুকটাও লাল। বুক থেকে নিচের দিকটা সোনালী হলুদ, চক্ষু কালো, লেজের শেষ প্রান্ত সবুজাভ নীল। এরা গাছের পাতার মধ্যে আহার ও প্রেমপর্ব সারে। মাটিতে নামে না। বট-পাকুরের ফল এদের প্রধান খাদ্য। তবে উঁইপোকা ধরে খাবার স্বভাবটাও চোখে পড়ে।

অদ্ভুত আচরণের পাখি শামুকখোল
এক সময় বাংলাদেশের সব জায়গায় শামখোল দেখা যেতো। শুধু শামুক-ঝিনুক খেয়েই বেঁচে থাকতে পারে এরা। শামুকের প্রতি আসক্তির কারণেই বাংলার মানুষ তার নাম দিয়েছিল শামুকভাঙ্গা, শামুকখোর, শামুকখোল কিম্বা শামখোল।
শামখোল বেশ ঢ্যাঙ্গা আর বড়সড় পাখি। পানিতে হেঁটে বেড়াবার জন্যে লম্বা পা আছে বলে মাটি থেকে তার উচ্চতা আড়াই ফুট পর্যন্ত হয়। ছড়ানো দুই ডানার মাপ তিন ফুটের কম হবে না। দুই চক্ষুর মধ্যে একটা বড় ফাঁক থাকায় বড় অদ্ভুত দেখায় শামখোলের ঠোঁট।
শামখোলের ইংরিজি নাম ওপেন-বিল, যার অর্থ খোলাঠোঁট। শামখোলের বৈজ্ঞানিক নামটা আরো মজার- অ্যানাস্টোমাস অসিট্যান্স - যার মানে ‘হাই-তোলা মুখ’।
শামখোলের খোলা ঠোঁটের রহস্যের মতই তার কিছু কিছু আচরণেরও ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
একবার আংটি-পরানো এক শামখোল-ছানাকে থাইল্যান্ডে তার বাসা ছেড়ে বিদায় হবার কয়েক দিনের মধ্যেই ১৫০০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশে পাওয়া গেল।
শামখোল সাধারণত দূর-পাল্লার পরিব্রাজক নয়। তাই ঐ ছানাটির বাংলাদেশ সফরের রহস্য আজও ব্যাখ্যা করা যায়নি।
এক হিসেবে দেখা গেছে, পৃথিবীতে এখন মাত্র এক লক্ষ শামখোল টিকে আছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কাই তাদের শেষ আশ্রয়। বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কায় এখন শামখোলের কোন প্রজননভূমি নেই। ভারতের প্রজননভূমিতেও প্রচন্ড খরার জন্যে কোন কোন বছর শামখোলের প্রজনন বন্ধ থাকে।

পাখির রাজা ফিঙে
ছোটখাট পাখি হলেও ফিঙের মত চটপটে পাখি বলতে গেলে দেখা যায় না। ফিঙে ছোট পাখি হলে কী হবে অনেক বড় পাখিদের চেয়েও তার সাহস অনেক বেশি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ফিঙে তার চাইতে বড় পাখি যেমন-কাক, চিল, বাজ, পেঁচা এমনকি শকুনকেও আক্রমন করে।
এদের চলাফেরায় কেউ ঝামেলা পাকালেই কিছুতেই সে ছাড় দেয় না। এ স্বভাবটা ফিঙের বেশি দেখা যায় প্রজননকালে। এসময় তার বাসার চারপাশে কাউকেই পাখিটি সহ্য করতে পারে না। কিছু কিছু শান্ত, নিরীহ পাখি আছে যারা ফিঙে যে গাছে বাসা বানায় সে গাছেই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বাসা বানায়। এসব গুণ আর বাহাদুরির জন্যই মনে হয় অনেকেই ফিঙেকে পাখির রাজা বলে।
ফিঙে করভিডি পরিবারের গায়ক পাখি। মিষ্টি সুরে ডাকার পাশাপাশি এরা কর্কশ কন্ঠেও ডাকে। এদের নকল ডাকের অভ্যাসও আছে। ফিঙেকে অনেক এলাকায় ফিচকা, ফিঙা, ধেথচুয়া,রাজাপাখি এমনকি ডাকাতপাখি নামেও চেনে। এদের দেহ সম্পূর্ণরূপে কালো, তার উপর নীলের আভা। লম্বা লেজ খানিকটা চেরা।
ফিঙের প্রজননকাল ফেব্রুয়ারি-আগষ্ট মাসে শুরু হয়। এ সময় এরা দু’ডালের মাঝখানে নরম ঘাস, লতাপাতা দিয়ে বাসা বানায়। ৩-৪টি বাদামী ফোঁটাযুক্ত ডিম পারে। স্বামী-স্ত্রী একত্রে মিলে সংসার দেখাশুনা করে।
আমাদের দেশে এরকম অনেক প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এসব বৈচিত্র্যময় পাখি আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই এদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব।
তবে বাসাবাড়ির লোহার খাঁচায় নয় তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশেই এদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
কারণ সবাই তো জানেন বন্যেরা বনেই সুন্দর।
কম্পিউটার ইন্টারনেট যুগের মানুষ আমরা। মাকড়শার জালের বিস্তৃত সাবমেরিন ক্যাবল বেয়ে আমরা মুহূর্তের মধ্যেই ঘুরে আসতে পারছি পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে। কিন্তু আমাদের বাসা-বাড়ির পাশের ছোট্ট গাছের ছোট্ট টুনটুনিটির খবর রাখা হয় না তেমন করে। শোনা হয় না তার মিষ্টি গানের সুর। আমাদের দেশের বৈচিত্র্যময় এসব পাখিদের জীবনেও আছে অনেক মজার মজার ঘটনা।
চলুন আজ কিছু চেনা পাখির অজানা কথা জেনে নিই।
বাচ্চা ডাহুকের বুদ্ধি
আমাদের দেশে যে ক’টি পাখি ডাকের জন্য বিখ্যাত তাদের মধ্যে ডাহুক অন্যতম। ডাহুক অনেক সময় পোষও মানে। এই অনুগত পোষা পাখিটি দিয়ে অনেকে বুনো ডাহুকও শিকার করে। সারা বছর ডাহুকের ডাকাডাকি তেমন শোনা না গেলেও বর্ষাকালে এরা বেশি ডাকাডাকি করে।
আষাঢ়- শ্রাবন মাস এদের প্রজননকাল। জলাশয়ের ধারে ঝোপের মধ্যে এরা বাসা বানায়। মেয়ে পাখিটি ৬-৭টি ডিম দেয়। স্বামী স্ত্রী মিলে ডিম তা দেয়। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হল এ পাখির বাচ্চাগুলো কালো রঙের। পোকামাকড়, শামুক, উদ্ভিদের ডগা, শস্যদানা এদের প্রিয় খাবার। তবে বাচ্চার খাবার গ্রহণের সময় ঘটে সবচেয়ে মজার ঘটনা। অন্য বেশিরভাগ পাখিরা তাদের বাচ্চাকে মুখে তুলে খাইয়ে দেয়। কিন্তু মা ডাহুকী কখনও বাচ্চাদের তুলে খাওয়ায় না।
তাহলে কীভাবে খায় ওরা? ডিম থেকে বাচ্চা বের হবার সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মেই বাচ্চাগুলো ২০ ফিট উঁচু থেকে লাফ দিয়ে নামে মাটিতে। শরীরটা পাতলা বলে লাফ দিয়ে মাটিতে পড়লেও তাদের কিছুই হয় না। মাটিতে নেমেই বাচ্চাগুলো মা বাবার পিছনে পিছনে হেঁটে হেঁটে খাবার খুঁটে খুঁটে খায়।
ধৈর্য্যশীল পাখি মাছরাঙ্গা
মাছরাঙ্গা পাখিটিকে দেখলেই মনে হবে অত্যন্ত শান্ত ও ধৈর্য্যশীল। জলাশয়ের কাছাকাছি কোন ডালে বা কোন তারে বসে থাকে, নড়াচড়াও কম করে। মাছ কোন এঙ্গেলে আছে সেটা তার সূক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে দেখে নেয়।
সব প্রজাতির মাছরাঙ্গার মাছ ধরার পদ্ধতি একই রকমের নয়। কোন কোন মাছরাঙ্গা জলাশয় বা পুকুরের কিনারের মাছ ধরতে বেশি পছন্দ করে। আবার কেউবা ধরে জলাশয়ের মাছখানের মাছ। প্রতিসরণ বোঝার ক্ষমতা আর প্রতিযোগিতা এড়াতেই তাদের এ প্রবণতা।
বাংলাদেশে ১২ জাতের মাছারাঙ্গা আমাদের দেশে দেখা যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মাছরাঙ্গার নাম পাতি মাছরাঙ্গা। এদের দেশের প্রায় সব জলাশয়েই দেখা যায়।
অবিরাম ডাকের পাখি সেঁকড়া বসন্ত
সেঁকড়া বসন্তকে অনেকেই অবিরাম ডাকের পাখি বলে। কারণ এরা প্রায় সবসময় ডাকাডাকি করে। অবিরাম ডাকের পাখি হলেও শীতে এরা ডাকে খুবই কম। তাই চোখেও পড়ে কম। বসন্তের শুরু থেকেই এরা টুক্-টুক্-টুক্ শব্দ করে এমন ভাবে ডাকে যেন কামার লৌহার উপর হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছে। প্রায় সারা দিনভর এরা ডেকে চলে। আর দুপুরের নির্জনতা ভাঙ্গতে এদের তো জুড়িই নেই। ঘন ঘন ডাকের কারনে এদের কাঁসারীও বলা হয়।
সেঁকড়া বসন্ত উষ্ণমন্ডলীয় পাখি। তবে অস্ট্রেলিয়ায় এদের দেখা যায় না। বাংলাদেশে মোট ৫ প্রজাতির বসন্ত দেখা মেলে। এদের মধ্যে সেঁকড়া বসন্ত দেশের সব জায়গায় আছে বলেই ধরা হয়।
ছোট পাখি বলেই তাদের ঝুট ঝামেলা কম, শত্রুও কম। সেঁকড়া বসন্ত খুবই উজ্জ্বল রঙয়ের একটি পাখি। এদের কপালের লাল দাগটা দেখলে মনে হবে কেউ যেন সিঁদুর পড়ে দিয়েছে। বুকটাও লাল। বুক থেকে নিচের দিকটা সোনালী হলুদ, চক্ষু কালো, লেজের শেষ প্রান্ত সবুজাভ নীল। এরা গাছের পাতার মধ্যে আহার ও প্রেমপর্ব সারে। মাটিতে নামে না। বট-পাকুরের ফল এদের প্রধান খাদ্য। তবে উঁইপোকা ধরে খাবার স্বভাবটাও চোখে পড়ে।
অদ্ভুত আচরণের পাখি শামুকখোল
এক সময় বাংলাদেশের সব জায়গায় শামখোল দেখা যেতো। শুধু শামুক-ঝিনুক খেয়েই বেঁচে থাকতে পারে এরা। শামুকের প্রতি আসক্তির কারণেই বাংলার মানুষ তার নাম দিয়েছিল শামুকভাঙ্গা, শামুকখোর, শামুকখোল কিম্বা শামখোল।
শামখোল বেশ ঢ্যাঙ্গা আর বড়সড় পাখি। পানিতে হেঁটে বেড়াবার জন্যে লম্বা পা আছে বলে মাটি থেকে তার উচ্চতা আড়াই ফুট পর্যন্ত হয়। ছড়ানো দুই ডানার মাপ তিন ফুটের কম হবে না। দুই চক্ষুর মধ্যে একটা বড় ফাঁক থাকায় বড় অদ্ভুত দেখায় শামখোলের ঠোঁট।
শামখোলের ইংরিজি নাম ওপেন-বিল, যার অর্থ খোলাঠোঁট। শামখোলের বৈজ্ঞানিক নামটা আরো মজার- অ্যানাস্টোমাস অসিট্যান্স - যার মানে ‘হাই-তোলা মুখ’।
শামখোলের খোলা ঠোঁটের রহস্যের মতই তার কিছু কিছু আচরণেরও ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
একবার আংটি-পরানো এক শামখোল-ছানাকে থাইল্যান্ডে তার বাসা ছেড়ে বিদায় হবার কয়েক দিনের মধ্যেই ১৫০০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশে পাওয়া গেল।
এক হিসেবে দেখা গেছে, পৃথিবীতে এখন মাত্র এক লক্ষ শামখোল টিকে আছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কাই তাদের শেষ আশ্রয়। বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কায় এখন শামখোলের কোন প্রজননভূমি নেই। ভারতের প্রজননভূমিতেও প্রচন্ড খরার জন্যে কোন কোন বছর শামখোলের প্রজনন বন্ধ থাকে।
পাখির রাজা ফিঙে
ছোটখাট পাখি হলেও ফিঙের মত চটপটে পাখি বলতে গেলে দেখা যায় না। ফিঙে ছোট পাখি হলে কী হবে অনেক বড় পাখিদের চেয়েও তার সাহস অনেক বেশি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ফিঙে তার চাইতে বড় পাখি যেমন-কাক, চিল, বাজ, পেঁচা এমনকি শকুনকেও আক্রমন করে।
এদের চলাফেরায় কেউ ঝামেলা পাকালেই কিছুতেই সে ছাড় দেয় না। এ স্বভাবটা ফিঙের বেশি দেখা যায় প্রজননকালে। এসময় তার বাসার চারপাশে কাউকেই পাখিটি সহ্য করতে পারে না। কিছু কিছু শান্ত, নিরীহ পাখি আছে যারা ফিঙে যে গাছে বাসা বানায় সে গাছেই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বাসা বানায়। এসব গুণ আর বাহাদুরির জন্যই মনে হয় অনেকেই ফিঙেকে পাখির রাজা বলে।
ফিঙে করভিডি পরিবারের গায়ক পাখি। মিষ্টি সুরে ডাকার পাশাপাশি এরা কর্কশ কন্ঠেও ডাকে। এদের নকল ডাকের অভ্যাসও আছে। ফিঙেকে অনেক এলাকায় ফিচকা, ফিঙা, ধেথচুয়া,রাজাপাখি এমনকি ডাকাতপাখি নামেও চেনে। এদের দেহ সম্পূর্ণরূপে কালো, তার উপর নীলের আভা। লম্বা লেজ খানিকটা চেরা।
ফিঙের প্রজননকাল ফেব্রুয়ারি-আগষ্ট মাসে শুরু হয়। এ সময় এরা দু’ডালের মাঝখানে নরম ঘাস, লতাপাতা দিয়ে বাসা বানায়। ৩-৪টি বাদামী ফোঁটাযুক্ত ডিম পারে। স্বামী-স্ত্রী একত্রে মিলে সংসার দেখাশুনা করে।
আমাদের দেশে এরকম অনেক প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এসব বৈচিত্র্যময় পাখি আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই এদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব।
তবে বাসাবাড়ির লোহার খাঁচায় নয় তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশেই এদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
কারণ সবাই তো জানেন বন্যেরা বনেই সুন্দর।
No comments:
Post a Comment